শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫২ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিনিধি >> বরিশাল নগরীর কাজী পাড়া কোটি টাকা মূল্যের একটি বিবাদমান জমি দখল করতে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত (২৫ জুন মঙ্গলবার) ২২ নং ওয়ার্ডে পাবলিক হেল্থ এর সামনে মসজিদ সড়কে জমি দখলের ঘটনা ঘটেছে। জমির প্রকৃত মালিক মোঃ আসাদুজ্জামান ছালাম ও শালা মামুনকে পুলিশ চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। জমির মালিকের অন্য স্বজনদেরও আসামি করা হয়েছে। তাঁরা পালিয়ে থাকার সুবাদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাতিজা পরিচয়ের পুলিশের পাহারায় নির্বিঘ্নে জমি দখল করে বাউন্ডারী নির্মাণ অব্যাহত রেখেছেন।
১২ পুলিশ পাহারায় জমি দখল সম্পর্কে জানতে চাইলে এ এস আই ফরিদ হোসেন বলেন, আমরা জমি দখল দিতে আসিনি,আমরা আসছি ৯৯৯ এ কল পেয়ে আসছি। তিনি বলেন, বিদ্যুৎতের তারের উপর গাছ পরে আছে, গাছটির মালিক আসাদুজ্জামানকে সরাতে বলা হয়েছে তা সরানো হয়নি, তাই যাদের ঘরের তারের উপরে গাছ পরছে তারা গাছটি কেটে নিতেছে।
তিনি আরোও বলেন, চলতি মাসের ২৮ তারিখ থানায় বসার কথা আছে যে জমি পাবে সে নিবে। এই কথার মধ্যে এ এসআই ফরিদ হোসেন উপস্থিত সকলকে গ্রেফতারের অডার দিলে সাথে থাকা পুলিশ ঘটনা স্থানে দাড়িয়ে থাকা আসাদুজ্জামন ও তার শালা মামুনকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে জায় বলে অভিযোগ করেন আসাদুজ্জামানের স্ত্রী শিউলী বেগম।
তিনি বলেন, আমাকেসহ আরো অনেকে চাঁদাবাজি মামলা দিয়েছে। যাতে আমরা পালিয়ে থাকি। উপস্থিত এক সংবাদকর্মী গ্রেফতারের বিষয় এ এস আই ফরিদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওসি স্যারের অর্ডার রয়েছে। জমির মালিক কে সেটা দেখার প্রয়োজন নাই। যারা নির্মাণকাজ করছে তারাই কাজ করবে। আপনারা আমার সিনিয়রদের সঙ্গে কথা বলেন।’
এ বিষয়ে জমির মালিক শিউলী বেগম বলেন, ‘৯ শতাংশ জমির প্রকৃত মালিক আমি আমার স্বামী ও আমার তিন কন্যা। তিনি বলেন, আদালতে আমর পক্ষে রায় দিয়েছে। আমি জমি ভোগদখলে আছি সন্ত্রসীরা আমার ক্রয়কৃত ও আমার স্বামীর পৈত্রিক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল তিনি ২০১৭ সাল থেকে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে এখন পুলিশের সহযোগীতায় আমাদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে জমি দখলের চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, আমার স্বামী ও আমার ভাইকে চাঁদাবাজি মামলা দিয়ে গ্রেফতার করছে ঘুষখোর পুলিশ। শিউলী বেগম বলেন, ‘ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকবার আমরা থানায় অভিযোগ দিয়েছি পুলিশ আমাদের অভিযোগ আমলে নেয়নি। বরং পুলিশের সহযোগিতায় ভূমিদস্যুরা আজকে আমার জমিটি দখল করছে।’ তাহলে আমি ওই জমি উদ্ধারের জন্য ২০১৮ সালে দুটি ও ২০২১ সালে একটি কোতয়ালী মডেল থানায় সাধারন ডায়রী করিছি যাহার নং ৮২৮।
শিউলি বেগম বলেন, আমি ও আমার স্বামীসহ মিথ্যা মামলার আসামী, চাঁদা যদি চেয়ে থাকি তাহলে ৯৯৯ এ কল করে পুলিশ আনছি কেনও। শিউলী বেগম বলেন, জমি নিয়ে এখনো আদালতে মামলা চলমান আছে। ভূক্তভোগীদের অভিযোগ পুলিশ প্রভাবিত হয়ে মামলা নিয়ে হয়রানি করছে এবং সন্ত্রসী ও ভূমিদস্যুদের জমি দখলে সহযোগিতা করছে। হয়রানীর মামলায় আসামী শিউলি বেগম বলেন, পুলিশ কোনো তদন্ত ছাড়াই একটি সাজানো চাঁদাবাজির মামলা নিয়ে তাঁর ছোট ভাই ও স্বামীকে গ্রেফতার করেছে। আমাদের জমি নিয়ে আমি থানায় অভিযোগ দিয়েছি আমাকে সহযোগীতা না করে উল্টো আমার পরিবারের লোকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবজি মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। আমার দেওয়া অভিযোগ থানায় থাকা সত্বেও আমাদের গ্রেফতার করে টাকার বিনিময়ে ভূমিদস্যুদের জমি দখলে নিতে সহযোগিতা করছে পুলিশ। থানায় কাছে সহযোগিতা চেয়েও পাওয়া যায়নি।
ভূক্তভোগীর কাগজপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, নগরীর ২২নং ওয়ার্ডের কাজিপাড়া এলাকাল নিজের পৈত্রিক সম্পত্তি ও বাজারে প্রায় কোটি টাকা দামের জমি কিনে দীর্ঘদিন ধরে আসাদুজ্জামান ও তার স্ত্রী কন্যারা ভোগ দখল করে আসছিলেন। তবে স্থানীয় পাশের গোলাম মস্তফা জমিটি নিজের বলে দাবি করে কয়েক দফা দখলের চেষ্টা করেন। তিনি বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে না পেরে দখলে নিতে ব্যর্থ হন।
তবে ঢাকা থেকে ভাড়াটিয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভাতিজা পরিচয়ে কয়েকজনসহ স্থানীয় ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী আব্দুল মজিদের ছেলে জাকির হোসেন (৫০),এস্কেনদার আলী মৃধার ছেলে মোশারফ হোসেন(৬০), আসমত আলীর ছেলে শাহ আলম খান(৬৫)এবং থানার কিছু পুলিশকে ম্যানেজ করে পুলিশের উপস্থিতিতে গাছ কেটে জমি দখলে নিতে চেষ্টা করেন।
প্রতিপক্ষ বাধা দিতে পারে এমন আশংকায় তিনি ৩১ মে কোতয়ালী থানায় একটি সাধারন ডায়রী করেছেন, আজ সেই সাধারন ডায়রীকে ৫ লাখ টাকা চাঁদাদাবির মামলায় রুপান্তিত করেছেন কোতয়ালী থানা পুলিশ।
মামলায় জমির মালিক আসাদুজ্জামানসহ তাঁর সাত স্বজনদের আসামি করা হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে চাঁদাবাজি মামলা হয়েছে বলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। পুলিশ মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে তৎপরতা শুরু করলে তাঁরা আত্নগোপনে চলে যান। এ সুযোগে গোলাম মস্তফা ভাড়াটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাতিজা সহ এলাকার কিছু ভূমি দস্যু সন্ত্রাসী লোকজন দিয়ে বিবাদমান জমিতে বাউন্ডারী স্থাপনা নির্মাণ শুরু করেন।
শিউলী বেগম দাবি করেন, সাজানো অভিযোগে মামলা দেওয়ার কারণে তাঁরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন এ সুযোগে জমিটি দখলে নিয়ে বাউন্ডারী নির্মাণ করছেন ভূমিদস্যুরা। জানাজায়, জমিটির মূল মালিক ছিলেন মনোয়ারা বেগম ও মানিক হাওলাদার নামে দুই ব্যাক্তি। জে.এল ৫০ নং বগুড়া আলেকান্দা মৌজায় এস.এ ৩৩৫ খতিয়ানের ৪৭২/৪৭৩/৫০৮ নং দাগের .০৮ একর এবং এস.এ ৩৩৬ নং খতিয়ানের ৫০ নং দাগের .২০ একর ভূমিতে আকুব্বর এক আনা এবং হামেদ ও আব্দুল মজিদ প্রত্যেকে আনা ।. আনা অংশে মালিক দখিলকার থাকেন। তাহাতে রেকর্ডীয় আকুব্বরের লোকান্তরে ২ পুত্র আঃ গনি, আলী ও ১ কন্যা ছালেহা ওয়ারিশ। ছালেহার মৃত্যুতে ২ পুত্র আদম আলী,হাবিব ও দুই কন্যা কুলসুম, রহিমা ওয়ারিশ। কুলসুমের মৃত্যুতে ১ পুত্র আলতাব ফরাজী , রহিমার মৃত্যুতে স্বামী মফিজউদ্দন ৪ পুত্র ও ২ কন্যা ওয়ারিশ ২৮/১০/২০০১ তারিখে ৬০৮৫ নং হেবাবিল এওয়াজনামা দলিল মূলে .১০ একর ভূমি থেকে মানিক হাওলাদার ও মনোয়ারা বেগম ০৭ শতাংশ ভূমি প্রাপ্ত হইয়া ১৯/০৪/২০১০ তারিখে আসাদুজ্জান সালাম পিতা আলী আহম্মদ হাওলাদাকে নালিশি জমি বাবদ ক্ষমতা অর্পন করেন। সদর সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে ৩২৯৬ নং রেজিকৃত দলিল মূল্য সহকারী কমিশনার ভূমি আদালতে মিস কেস নং ৬৯ কেটি/১৩-১৪ (১৫০) ধারার মাধ্যমে ৫ লক্ষ টাকায় মিউটেশন করান। আসাদুজ্জামান সালাম ২৬/০২/২০১৪ তারিখে সদর সাব রেজিঃ অফিসে রেজিকৃত ৪৪৯৯০ নং বায়ণা চুক্তিপত্র দলিল মূলে মোসাঃ শিউলি বেগম বরাবরে হস্তান্তর করেন। মনোয়ারা বেগম আসাদুজ্জামান ছালামকে ক্ষমতা অর্পন করে দেওয়া জমির বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগ ফরম নং (৪) ২ মূল মোকদ্দমার রায়ের শিরোনাম বরিশাল জেলা মোকাম সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানী মোকদ্দমা নং ২৩৬/২০১৭ বিবেচনার্থে ৩৯ ধারার বিধানমতে দলিল বাতিলের ডিক্রি পাওয়ার প্রার্থনা করেন। আদালত বিবাদীর পক্ষে ১৯/১১/২০২৩ তারিখে রায় প্রদান করেন।
কোতয়ালী থানার ইন্সপেক্টর মোঃ আমানুল্লাহ আল বারী বলেন, গ্রেফতারের বিষয়টি আমার জানা নেই। আপনার যদি কিছু জানার বিষয় থাকে ওসি স্যারের কাছ থেকে যেনে নেন।
কোতয়ালী থানার ইন্সপেক্টর রাহাতুল বলেন, আমি ৯৯৯ এ কল পেয়েছি তার পরে ঘটনা স্থানে গিয়ে আমি তাদের গ্রেফতার করেছি। জানতে চাও হয় চাঁদাবাজি করিলে কি চাঁদবাজরা ৯৯৯ এ কল করে পুলিশ নিয়ে চাঁদাবাজি করে প্রশ্নে তিনি বলেন, মামলা হয়েছে তাই গ্রেফতার করেছি। আরো জানতে চাওয়া হয় আসামীরা ১৮ ও ২১সালে তিনটি সাধারন ডায়রি করেছে জমি বুঝে পাওয়ার জন্য ,তাহলে চাঁদাবজারা কি জমি বুঝে পাইতে ডায়রী করতে পারে প্রশ্নে তিনি বলেন, আপনি থানায় আসেন এখানে বসে কথা বলি । এই বলে মোবাইলের কল কেটে দেয়।
কোতয়ালী থানার ওসি এ,টি এম হারিচুর রহমান বলেন, গতকাল কাজীপাড়া থেকে গ্রেফতারের বিষয় আমার জানা নেই।